জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম হারে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে যুক্তরাজ্যে

কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম হারে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে যুক্তরাজ্যে।

কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম হারে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে যুক্তরাজ্যে। উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় দেশটির মানুষ ব্যয়ের চেয়ে সঞ্চয়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রানীতি নির্ধারণে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোর ব্যয় প্রকৃত মূল্যে বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু মাথাপিছু হিসেবে ব্যয় কমেছে ৩ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু ব্যয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, জাপানে ৫ শতাংশ ও ইতালিতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এমনকি জার্মানিতেও বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ব্রিটিশ ভোক্তাদের জন্য অস্বাভাবিক প্রবণতা। কারণ কভিড-১৯ মহামারীর আগের ছয় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে ব্যয় ছিল ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী। অথচ এখন আয় বাড়লেও সেই অর্থ খরচ না করে সঞ্চয় করছে মানুষ।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) যুক্তরাজ্যের সঞ্চয়ের হার ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি এক বছর ধরে ১০ শতাংশের বেশি হারে স্থিতিশীল রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এ হার গড়ে ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিওইর নীতিনির্ধারক ক্যাথরিন ম্যান বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে ধরে নিচ্ছি সঞ্চয়ের হার কমবে। কিন্তু এখনো তা ঘটেনি, ফলে জিডিপির পূর্বাভাস অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২২ সালে সুদহার বৃদ্ধির পর কিছুটা সঞ্চয় বৃদ্ধি স্বাভাবিক ছিল। তখন অনেকেই উচ্চ সুদে আইএসএ বা সঞ্চয়পণ্যে বিনিয়োগ করেছেন। অন্যদিকে বাড়ির মালিকরা ঋণ পুনঃঅর্থায়নের আগে দ্রুত ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করেছেন।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডেলস মনে করেন, ‘এ প্রভাব এখন ম্লান হওয়ার কথা। সম্ভবত আচরণগত পরিবর্তন ঘটেছে। মানুষ এখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে বেশি সঞ্চয় করছে।’

বিওইর উপপরিচালক ক্লেয়ার লমবারডেলি বলেন, ‘চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। ব্যয় ও সঞ্চয়ের ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা আছে।’

এদিকে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের উপদেষ্টা মাইকেল সন্ডার্স মনে করেন, কেবল মূল্যস্ফীতিই এর কারণ নয়। মানুষ এখন চাকরি, কর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে বেশি চিন্তিত। কর যে বাড়বে তা মোটামুটি সবাই জানে।

ব্রিটিশ ব্রোকারেজ সংস্থা পিল হান্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যালাম পিকারিং বলেন, ‘মানুষ এখন আগের মতো ধনী মনে করছে না। গত তিন বছরে বন্ডের দরপতন পেনশন তহবিলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বাড়ির দামও প্রকৃত মূল্যে স্থবির। এখন আর শুক্রবারের নৈশভোজে কেউ বলে না যে বাড়ির দাম ২৫ হাজার পাউন্ড বেড়েছে, তাই ছাদে নতুন ঘর তুলব।’

আরও